দুধ চা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কলা খাওয়ার উপকারিতা বাঙালির চা খাওয়ার অভ্যাস বেশ পুরনো। এখন তো আমাদের প্রতিদিনই চায়ের দরকার হয়। সকালে চা, বিকেলে চা, আড্ডায় চা, অতিথি আপ্যায়নে চা। চা ছাড়া অনেকেরই দিনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
দুধ-চা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

চা কি আর এমনি থেকে ভালোলাগে। এর সঙ্গে দুধ মিশিয়ে দুধ চা তৈরি করে খেতে বরং বেশি ভালোলাগে। কিন্তু সুস্বাদু এই পাণীয় আপনার জন্য ক্ষতিকর কারণ হতে পারে তা কি জানেন। নিয়মিত দুধ চা খেতে থাকলে তা আপনার স্বাস্থ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। 

পেজ সূচিপত্রঃ 

দুধ চা খাওয়ার উপকারিতা

দুধ চায়ে থাকা ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উপাদান শরীরকে চনমনে রাখে, ক্লান্তি দূর করে এবং মন সতেজ করে।  এক কাপ গরম দুধ চা শরীরকে শিথিল করে এবং মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। সঠিকভাবে তৈরি দুধ চা হালকা হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বিশেষ করে খাওয়ার পরপর অল্প পরিমাণে পান করলে। দুধ চায়ে থাকা চিনি ও দুধ সাময়িক শক্তি যোগাতে সাহায্য করে যা কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে পারে। 

চা নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া হলে শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য যা আপনাকে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিকভাবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং রক্ত পরিশোধনকারী এজেন্টে পূর্ণ। দুধ চা মোটাকরণ এবং ওজন হ্রাস উভয় কাজ এজেন্ট হিসেবে করতে পারে। আপনি যদি ওজন বাড়াতে চান তাহলে দুধ চায়ের ফ্যাট সহজ উপায় এবং অন্যদিকে আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে দুধ চায়ের পলিফেনল এবং ক্যাফিন যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। দুধ চা শরীরে শক্তি যোগায়। শরীরের স্ট্রেস রিলিজ হিসাবে কাজ করে। 

দুধ চা পান করা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াইতে সাহায্য করে। এবং ক্ষতিকর জার্ডিকেল ক্ষতি প্রতিরোধ করে। চা পান করার সর্বোত্তম সময় সাধারণত খাওয়ার দুই ঘন্টা পরে। আপনি তা সকালে পান করতে পারেন, তবে খালি পেটে নয় এবং চা বা কফি কোনটি আপনার প্রথম খাবার হওয়া উচিত নয়। তাই ক্যাফিন আপনার লিচনতন্ত্রের জন্য দুর্দান্ত এবং গতি প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। চায়ে উপস্থিত থিওফাইলাইন নামক রাসায়নিক উপাদান আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই করার জন্য আপনার মন এবং পেশিগুলিকে শান্ত করতে কার্যকর। 

চা ও দুধের আলাদা উপকারিতা

সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হয়েছে সবুজ ও রঙ চায়ের উপর। দুটি ক্যামেলিয়া সিনেনসিস উদ্ভিদের পাতা থেকে তৈরি। সবুজ চা সমৃদ্ধ ক্যাটেচীন নামক ফ্ল্যাভোনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। রং চা তে থাকে থিফ্ল্যাভিনস, যা শরীরের ক্ষতি কর ফ্রি রেডিক্যাল প্রতিরোধে সহায়তা করে। এসব যৌগ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ যা শরীরের বৃদ্ধি হাড়ের স্বাস্থ্য ও শারীরিক গঠনের জন্য অপরিহার্য। 

 একদিকে মনে হতে পারে চা ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া উপকারী। কিন্তু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দুধের প্রোটিন বিশেষত ক্যাসেইন চায়ের এন্টিঅক্সিডেন্ট এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের যুক্ত হয়ে তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন এই গবেষণায় দেখা গেছে শুধু কালো চা পান করলে রক্ত প্রবাহ বেড়ে হৃদ যন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়, কিন্তু দুধ মিশিয়ে খেলে সেই প্রভাব পাওয়া যায়নি। তবে আবার কিছু ছোট গবেষণায় দেখা গেছে দুধ মেশালেও চায়ের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কমে না। গবেষকরা বলেছেন চা বেশি সময় ধরে ভিজিয়ে রাখলে এবং দুধ যোগ করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণ ভালো হয়। 

 যাদের ল্যাকটোজে সমস্যা আছে তাদের দুধ মেশানো কফি বা চা এড়িয়ে চলাই ভালো। দুধে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট থাকে, যা হাড়ের জন্য উপকারী। তবে একবার দুধ কফি বানালে পুনরায় গরম না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ তা খাদ্য নালীতে  জ্বালা তৈরি করতে পারে। চা দুধ দিয়ে খাওয়া কারো জন্য উপকারী, আবার কারো জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ মেশালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কিছুটা কমলেও প্রদাহ কমানো এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় বাড়তি উপকার দিতে পারে। 

 তবে যাদের ওজন কমানোর চেষ্টা বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আছে, তাদের জন্য দুধ ছাড়া চা-কফি ভালো। তাই সিদ্ধান্ত হলো চা বা কফিতে দুধ মেশাবেন কি না, তা নির্ভর করবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনের উপর, আর সংযমই এখানে মূল চাবিকাঠি। 

খালি পেটে দুধ চা পানের অপকারিতা

সকালে ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই ফ্রেশ হয়ে দুধ চা পান করেন অনেকেই। তবে এই অভ্যাস ভালো নাকি বিপদজনক তাকি জানা আছে আপনার? যদিও চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভান্ডার। আর এই উপাদান শরীরে প্রদাহের প্রকোপ কমাতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত চায়ের কাপে চুমুক দিলে একাধিক রোগের ঝুঁকিও কমে। এছাড়াও চাই চায়ে এমন কিছু প্রদান আছে যা ব্রেনে হ্যাপি হরমোন ক্ষরণ বাড়ায়। তাই চা পান করলে মনে মনে খুশির অনুভূতি জাগে। এমনকি কাজে মনোসংযোগ করতেও খুবই সুবিধা হয়। 

তবে খালি পেটে দুধ চা পান করাটাই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ, এমনটি জানিয়েছেন ভারতের পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরী। তার মতে খালি পেটে দুধ চা পান করার অভ্যাস গ্যাস এসিডিটির প্রকোপ বাড়াবে। এতে করে ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়বে। তাই এই বদ অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করুন। কোয়েল পাল চৌধুরীর কোথায়, দুধ চা খাওয়ার তুলনায় রং চা বা শুধু লিকার চা পান করা বহু গুণে স্বাস্থ্যকর। এমন কি সকালে খালি পেটে লিকার চা পান করলে শারীরিক সমস্যার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিও তেমন থাকে না বললেই চলে।

তবে লিকার চায়ে আবার বেশি চিনি মেশাবেন না। সে ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে এক কাপ দুধ চা পান করতে পারেন। এতে করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অতটা হবে না। আর দুধ চা তৈরির ক্ষেত্রে লো ফ্যাট যুক্ত দুধ ব্যবহার করুন। এই নিয়ম মেনে চললে ওজন ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে আবার কোলেস্টেরলও থাকবে বশে। রং চা দিনে ৩-৪ কাপ পান করতে পারেন, অন্যদিকে দুধ চা ২ কাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। এতে করে শরীরের কেমন ক্ষতি হবে না। এর বেশি রং চা বা দুধ চা পান করলে গ্যাস, এসিডিটি থেকে শুরু করে লিভার ও কিডনির মত অঙ্গেরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এমনকি বাড়তে পারে দুশ্চিন্তা ও অবসাদ। 

দুধ চা কি উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাওয়া বারণ

যেহেতু দুধ একটি পুষ্টিকর ও সুষম খাবার, তাই এটি যেকোনো ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারে। অনেকে মনে করেন উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য দুধ ক্ষতিকর। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, বরং দুধ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। সে বিবেচনায় কেউ যদি চায়ের সঙ্গে গরুর খাঁটি দুধ মিশিয়ে খান সে ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে দুধ চায়ের সঙ্গে অনেকেই চিনি মিশিয়ে খান। চিনি যতটা পরিহার করা যায়, ততোই ভালো। চিনি ছাড়া দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস করা উত্তম। 
দুধ-চা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

তবে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি কারো কিডনি রোগ, হাই কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস এসব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত দুধ চা না খাওয়াই ভালো। দুধের যে ননী বা স্বর থাকে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের তা খাওয়া ঠিক নয়। যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, সে ক্ষেত্রে দুধ চাসহ যেকোনো খাওয়ারই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। 

চায়ের সঙ্গে যেসব খাবার খেলে সমস্যা হয়

চায়ের সঙ্গে কেক কিংবা ডোনাটের মত চিনিযুক্ত খাবার খেতে রক্তে সরকার আর পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে শরীর ক্লান্ত লাগে। চায়ের সঙ্গে পটেটো চিপস, সল্টেড বাদাম কিংবা চানাচুরির মত খাওয়ার খেলে শরীরে সোডিয়ামের অধিক্য দেখা দেয়। চায়েও সোডিয়াম থাকে, ফলে চায়ের সঙ্গে এসব খেলে পেট ফাপে, শরীরে পানির পরিমাণ কমে, রক্তচাপ বেড়ে যায়। মসলাদার খাবারের সঙ্গে চা খেলে হজমের সমস্যা হয়। এতে অনেকের বুকে জ্বালাপোড়া সহ আরো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। 

চায়ে লেবুর রসে কোন সমস্যা নেই। একইভাবে মালটা, কমলা বা সাইট্রাস-জাতীয় অন্যান্য ফলের রসও চায়ের সঙ্গে চলতে পারে। তবে দুধ চা বা লাল চায়ের পাশাপাশি এসব ফল খেলে এসিডিটি বাড়ে। এতে পেটে অস্বস্তি হতে পারে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে প্রকট। গরু বা খাসির মত লাল মাংস দিয়ে তৈরি কোন খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চা খেলেও সমস্যা আছে। এতে বদহজম হতে পারে। চায়ের ট্যানিন নামের যৌগ লাল মাংসের প্রোটিনের সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে। এ কারণে শুরু হতে পারে পেটের গোলমাল।

প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রচুর অ্যাডিটিভ ও কৃত্রিম ফ্লেভার। চায়ের প্রাকৃতিক স্বাদের সঙ্গে এসব খাবারের স্বাদ সাংঘাষিক। এতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তেলে ভাজা খাবার চায়ের সঙ্গে খাওয়ার পর আপনার আলসেমি লাগতে পারে, দুর্বল বোধ করতে পারেন। এসব খাবারের চর্বির পরিমাণ অনেক বলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

চায়ের সঙ্গে খান স্বাস্থ্যকর খাবার 

চায়ের সঙ্গে স্ন্যাকস খাওয়ার চল ভারতীয়দের বহু পুরনো। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চায়ের সঙ্গে স্ন্যাকস খাওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগই স্বাস্থ্যকর খাবার। সেটা করলে চলবে না, আপনাকে সঠিক স্ন্যাকস বেছে নিতে হবে। চায়ের সঙ্গে 'টা' হিসেবে রোস্টেট মাখানা, ছোলা ভাজা, চিড়ে ভাজা ইত্যাদি রাখতে পারেন। শুকনো মুড়িও খেতে পারেন। এছাড়া অঙ্কুরিত ছোলার চট, বাজরা ও জোয়ারের পাফ, কড়াই ভাজা, রোস্ট করা রাঙা আলু, বেক করা সিঙাড়াও খেতে পারেন। 

এই ধরনের খাবার স্বাস্থ্যকর এবং চায়ের সঙ্গে খাওয়া যায়। তবে, যেন চিনি ও দুধ মেশাবেন না। তবেই উপকার পাবেন। দুধ চা বা লিকার চায়ের পরিবর্তে অনেকের পছন্দ লেবু চা। চায়ের মধ্যে লেবুর রস মেশানোর ফলে শরীরের পরিপাক ক্রিয়া অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। লেবু চা খাওয়ার পরে মুখের ভেতর অনেকেই টকটক স্বাদ অনুভব করেন। সাধারণত এসিডিটি হলে এমনটা হয়। আবার দুধ চায়ের সঙ্গে কোন রকম চাট যেমন পাপড়ি চাট, দই বড়া, ভেলপুরি ফুচকা খেলেও হতে পারে একই ধরনের সমস্যা। তাই এসিডিটি এড়াতে চায়ের সঙ্গে টক কিছু খাওয়া যাবে না। 

লুধিয়ানার দ্য ডায়েট এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী সিম্রাট কাঠুরিয়া বলেন, কেক করা বা এয়ার ফ্রাই করা স্নাক্স তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হয়। এভাবে মটরশুঁটি, পপকন, মাখনা খাওয়া যেতে পারে। আসতো গমের বিস্কুট খাওয়া ভালো বিশেষ করে বাসায় বানানো হলে। 

দুধ চা নাকি কালো চা, কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

চা পান করা দৈনন্দ জীবনের বিভিন্ন সমস্যার জন্য একটি টনিকের মত। সবুজ সাদা বা কালো চা কিংবা দুধ চা হোক, এই সতেজ পৌনীয় টির বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে হার্টের স্বাস্থ্যর উন্নতি সবই করতে পারে চা। চা পান কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে এবং সেই কারণে এটিকে ক্যান্সার বিরোধী পোণীয় হিসেবেও অভিহিত করা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নিয়মিত চা পান করেন যারা তাদের নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। 

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় লক্ষ করেছেন, কম মাত্রায় ব্ল্যাক টি সেবন করলে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা দিনে দুই তিন কাপ চা পান করেন তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা, যারা একদমই চা পান করেন না তাদের থেকে ৯ -১৩ শতাংশ কম। এই গবেষণাটি মূলত যুক্তরাজ্যর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের একটি শাখা ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এর গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। 

গবেষকরা দেখেছেন যে যারা দিনে দুই তিন কাপ চা পান করেন তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা, যারা একদমই চা পান করেন না তাদের থেকে ৯-১৩ শতাংশ কম। আবার অতিরিক্ত পরিমাণ চা পান করলে কার্ডিও ভাস্কুলার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার সাথে ইস্কেমিক হার্টের সমস্যা এবং স্ট্রোক ও হতে পারে। এনালস অফ ইন্টার্নাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ প্রতিদিনই নিয়মিত চা পান করেন।

 তবে যারা মূলত ব্ল্যাকটি সেবন করেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে কোন ধরনের চা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী? দুধ চা নাকি রং চা? চিকিৎসকের মতে যারা নিয়মিত চা খান তাদের অবশ্যই জানার প্রয়োজন যে দুধ চায়ের চেয়ে রং চা শরীরের জন্য বেশি উপকারী। জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক এক পরীক্ষায় ১৬ জন নারীকে একবার রং চা আরেকবার দুধ চা পান করতে দেন। তারপর প্রতিবারই আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে তাদের রক্তনালীর প্রসারণ মাপা হয়। এই পরীক্ষায় দেখা যায় রং চা রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায়। রক্তনালীর প্রসারণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত জরুরী। 

 ক্ষতিকর দিক 

আমাদের মধ্যেও অনেকেই কোষ্ট-কাঠিন্যর সমস্যায় ভোগেন। এদের ভোগান্তি আরো বাড়াতে পারে দুধ চা। আসলেই এই পানীয়ে রয়েছে ক্যাফিন এবং থিওফাইলিন নামক দুটি উপাদান। আর এই দুই উপাদান কিন্তু অন্ত্রের মলের গতিবিধি ধির করে দেয়। হলে কোষ্টকাঠিন্য  প্রকোপ বাড়ে। তাই কনস্টিপেশনের রোগীরা যতটা সম্ভব দুধ চায়ের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এই কাজটুকু করলেই উপকার পাবেন হাতেনাতে। এই ব্যস্ততা ভরা জীবনে দুশ্চিন্তা না থাকাটাই অস্বাভাবিক বিষয়। তবে অত্যাধিক দুশ্চিন্তা কিন্তু মন ও শরীরের ক্ষতি করে। তাই স্ট্রেস কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আপনার এমন লক্ষ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে অত্যধিক দুধ চা প্রীতি। 

 গবেষণায় দেখা গিয়েছে সারাদিনে কাপের পর কাপ দুধ চা পান করলে দুশ্চিন্তা এবং উৎকণ্ঠা ঘিরে ধরতে পারে। তাই সাবধান হন। সুস্থ থাকতে চাইলে দিনে অন্ততপক্ষে সাত ঘন্টা ঘুম চাই। তবে ৭ ঘন্টা কি অনেকেই তো সারারাতের ২ থেকে ৩ ঘন্টাও চোখের পাতা এক করতে পারেন না। আর তাদের এই সমস্যার পেছনে দুধ চায়ের ষড়যন্ত্র থাকলেও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে চায়ে মজুদ রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যাফিন। আর এই উপাদান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ভেবেচিন্তে দুধ চা খান। আর একান্তই দুধ চা খেতে হলে ফ্যাট ছাড়া দুধ নিয়ে বানান। ইতি উপকার মিলবে আর মনে রাখবেন দিনে দুই কাপের বেশি চা খাবেন না ব্যাস তাহলেই সুস্থ থাকার পথ প্রশস্হ হবে।

 দুধ চা খাওয়ার নিয়ম 

বাজারে অনেক ধরনের দুধ পাওয়া যায়, যেমন লো ফ্যাট, টোনড মিল্ক, ফুলক্রিম গুড়া দুধ ইত্যাদি। এসব দুধের পুষ্টিগুণ এক হলেও ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ আলাদা। তাই দুধ চা খেতে হবে চর্বি ছাড়া। দুধ চা বানানোর সময় দুধ যেমন পাতলা হয় আর পানি হয় বেশি। এতে দুধ সহজেই হজম হবে, গ্যাস বা এসিডিটি হবে না। পরিমিত পরিমাণে দুধ চা পান করুন। সারাদিনে এক থেকে দুবার। কারণ চায়ে আছে ক্যাফেইন আর দুধে আছে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল। অতিরিক্ত চা খেতে ক্যাফাইনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে নানান সমস্যা হতে পারে। 
দুধ-চা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

দুধ চায়ে আদা, দারুচিনি, এলাচি মিশিয়ে খেলে মেটাবলিজম উন্নত করে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করবে, ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। দুধ চায়ে চিনি ছাড়া কোকো পাউডার মেশাতে পারেন। কোকো পাউডার ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ, যা ক্ষুধা কমায় এবং এতে ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। দুধ চায়ে থাকে থায়োফাইলাইন, যার ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এর ফলে হতে পারে কোস্টকাঠিন্যর মত সমস্যা। এজন্য দুধ চা খাওয়ার আগে পানি খেয়ে নেবেন। খালি পেটে চা খাবেন না। এতে পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। এছাড়া খালি পেটে চা খেলে পটাশিয়াম এর মাত্রা বেড়ে কিডনির সমস্যা হতে পারে। 

ভারী খাবারের পরপরই চা খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে আয়রন, ক্যালসিয়াম জিঙ্কের শোষণ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এজন্য খাবার খাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করুন। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে তারা এটি মেনে চলুন। দুধ চা অতিরিক্ত গরম করলে ট্যানিন বের হয় বেশি, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম করবেন না। কনডেন্সড মিল্ককে ক্যালোরি অনেক বেশি। তাই কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করবেন না।

আদা দিয়ে দুধ চা  

আদা দিয়ে দুধ চা খেলে তা শুধু স্বাদে নয়, উপকারিতা ও হয়ে ওঠে অসাধারণ। আদায় আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা হজম শক্তি বাড়ায় বমি ভাব দূর করে এবং ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধ কাজ করে। তবে অতিরিক্ত আদা খাওয়া কিছু ক্ষেত্রে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিক তৈরি করতে পারে। তাই পরিমাণ বজায় রাখা জরুরী। শীতের কফি যতই জনপ্রিয় হোক ঠান্ডায় ধোয়াদার আদা চায়ের কাপের সঙ্গে ঠোঁটের রোমান্স আলাদাই। দুধ চায় আদা এলাচ বা অন্য মশলা দিয়ে যে খাঁটি ভারতীয় মসলা চায়ে বানানো হয় শীতের সন্ধ্যায় তার আবেদন এড়ানো মুশকিল। 

কিন্তু বাড়িতে সেই চা বানাতে গেলে সামান্য ভুলে কেটে যেতে পারে দুধ। অতিথির জন্য চা বানাতে বসে যখন বিপদ বাড়তে পারে। রেস্তোরার রাধুনীরা বলেছেন মসলা চা বানানোর সময় দুধে আদা দেওয়ার সময় হেরফেরেই বদলে যেতে পারে ফলাফল। অনেকেই শুরুতেই দুধে আদা দিয়ে দেন। সেটা হলে সমস্যা বাড়বে। এমনকি চা আর আদাও একসঙ্গে দিতে বারণ করেছেন তারা। 

কখন দুধ চায়ে আদা দেবেন এবং কিভাবে দিবেন

দুধে আদা সব সময় দিতে হবে চা দেওয়ার পরে। শুধু তাই নয় দুধে চিনি, চা দিয়ে একবার ফুটতে শুরু করলে তারপরই দিন আদা। দুধ ফোটার আগে আদা দিলে আদা থেকে নিঃসৃত অ্যাসিড দুধ কেটে দিতে পারে। আদা কুড়ে দিতে পারেন বা আদা থেঁতো করেও দিতে পারেন। তাতেই গন্ধ আসবে সবচেয়ে বেশি। যদি মসলা চায়ে এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ জাতীয় মসলা দিতে চান তবে আদা দেওয়ার পরেই সেই মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। তাহলেই মসলা চা রেডি। 

এছাড়াও লিকার চায়ে অবশ্য চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই। তবে লিকার চায়ের ক্ষেত্রেও চা পাতা দেওয়ার পরে আদা দিলে গন্ধ ভালো আসবে। 

 প্রতিদিন দুধ চা খেলে কি হয় 

দুধ চা নিয়মিত খেলে কিছু উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়। মানসিক প্রশান্তি ও ফোকাস বাড়ে। শারীরিক ক্লান্তি দূর হয় মাথা ব্যাথা কমে হজমে সহায়তা করে (বিশেষ করে আদা মেশালে) এবং ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে দিনে দুই তিন কাপের বেশি খেলে তার উল্টো প্রভাব পড়তে পারে। কারণ অতিরিক্ত চা পান করলে ক্যাফেইন এর মাত্রা বেড়ে যায় যা দেহে গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি ঘুমের ব্যাঘাত বা দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করতে পারে। 

চিনি ছাড়া দুধ চা খেলে কি ওজন বাড়ে? 

চিনি ছাড়া দুধ চা ওজন বাড়ায় না বরং এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। চায়ে থাকা ক্যাফেইন বিপাক ক্রিয়া (metabolism) বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। আবার দুধে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে ফলে অতিরিক্ত খাওয়া কম হয়। তবে দুধের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয় বা খুব ঘন দুধ ব্যবহার করা হয় তাহলে কিছুটা ক্যালরি যোগ হতে পারে। তাই চা বানানোর সময় সঠিক অনুপাতে আপনিও দুধ ব্যবহার করায় বুদ্ধিমানের কাজ। 

দুধ চা এবং মধু দুইটি আলাদা আলাদা ভাবে আমাদের শরীর ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে খেলে এই উপকারিতা অনেক গুণ বেড়ে যায়। দুধ চা যদি চিনি ছাড়া হয় আদামেশানো হয় এবং মধু যদি সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া হয় তাহলে তা হতে পারে এই দারুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো খাবার বা পানীয়ের ক্ষেত্রেই মাত্রা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। অতিরিক্ততা যে কোনো ভালো জিনিসকেও ক্ষতিকর করে তুলতে পারে।  

ওজন বাড়ার উপর দুধ চায়ের প্রভাব ব্যক্তির থেকে ব্যক্তিত্বে ভিন্ন হতে পারে। বয়স, বংশগতি, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, জীবনধারা ও সামগ্রিক খাদ্যের মতো কিছু কারণ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন কম বয়সের ব্যক্তি,  যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন, আর তাদের চেয়ে যারা বয়স্ক বা প্রবীণ, তাদের আসল জীবনধারা কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে দুধ চা থেকে ক্যালোরি পড়াতে কম সক্ষম। তবে দুধ চা খাওয়ার নিয়ম বা কৌশল জানলে ওজন বাড়ার ভয় থেকে কিছুটা মুক্ত থাকা যায়।  

বমি বমি ভাব হতে পারে

চায়ে রয়েছে ট্যানিন নামক একটি উপাদান। আর এই উপাদান কিন্তু পাকস্থলী এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যর দফারফা করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। আর সেই কারণেই রাতে চা খেলে পিছু নিতে পারে বমি বমি ভাব এর মত সমস্যা। শুধু তাই নয় এই ভুলের কারণে খাবার হজমেও সমস্যা হতে পারে। তাই পেটের অসুখ-বিশুখের থেকে চিরজীবন দূরত্ব বজায় রাখার ইচ্ছে থাকলে রাতে চা খাওয়ার ভুলটা শুধরে নিন। 

চিনি ছাড়া দুধ চা স্বাস্থ্যকর

চা সাধারণত অনেকেই চিনি মিশিয়ে খান। কিন্তু চিনি আসলে চায়ের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দেয়। চিনি ছাড়া দুধ চা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত হয় না ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। চা পাতায় থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল দেহের কোষ কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আবার দুধে থাকে ক্যালসিয়াম প্রোটিন ও ভিটামিন ডি যা হাড় মজবুত করে এবং শরীরকে শক্তি যোগায়। চিনি বাদ দিলে এই দুই উপাদানের গুনাগুন অক্ষণ্ণ থাকে এবং শরীরও তা সহজে গ্রহণ করতে পারে। 

যদি সঠিকভাবে চা তৈরি করে তা পান করা যায় তবে তা উপকারী। আর নয়তো বিষে পরিণত হয়। যেমন- চিনি মেশানো চা পান করলে শরীরে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে চিনি ছাড়া চা পান করলে শরীরে নানা উপকার হয়। চিনি ছাড়া চা খেলে ওজন কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর মত উপকারিতা পাওয়া যায়। এটি শরীরের বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবনিজম বাড়ায় যা ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। 

শেষ কথাঃ

আমরা ইতিমধ্যেই দেখলাম যে দুধ চা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেক কিছু। এর এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী হজম প্রক্রিয়ায় ভূমিকা এবং ক্যাফিন মুক্ত বৈশিষ্ট্য এটি একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর বিকল্প করে তোলে। তবে গর্ভবতী নারী যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন বা যারা বিশেষ ঔষধ গ্রহণ করছেন এবং তাদের জন্য দুধ চা খাওয়া উপযুক্ত নাও হতে পারে। 

উপরে বর্ণিত আলোচনার নিয়ম মেনে দুধ চা পান করলে এবং সঠিক নিয়মে পান করলে আপনি উপকারিতা পাবেন। সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে দুধ চা পান করলে আপনার দৈনিন্দন জীবনযাত্রার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ হয়ে উঠতে পারে। আশা করছি ব্লগটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। এরকম ব্লগ পেতে এই ওয়েবসাইটটি ফলো করুন। 







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ট্রিপজয়'প্যালসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. mominul islam
Md. mominul islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ট্রিপজয়প্যালস এর এডমিন তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।